Jul 20, 2025

সংস্কৃত সুভাষিতমালা - পার্থসারথি

Edit Posted by with No comments

 

সংস্কৃত সুভাষিতমালা

সঙ্কলনকর্তা ও ব্যাখ্যাতা - পার্থসারথি

 

सुभाषितम् -

अहो खलभुजङ्गस्य विचित्रोऽयं वधक्रमः

अन्यस्य दशति श्रोत्रमन्यः प्राणैर्वियुज्यते

 

সুভাষিতম্ -

অহো খলভুজঙ্গস্য বিচিত্রোয়ং বধক্রমঃ।

অন্যস্য দশতি শ্রোত্রমন্যঃ প্রাণৈর্বিযুজ্যতে।।

 

বঙ্গানুবাদ -

দুর্জনের (বা খলরূপী সাপের) বধের এই কৌশল বড়ই বিচিত্র! একজনার কানে দংশন করে, আর অন্যজনের প্রাণ বিয়োগ হয়।

 

নিগূঢ়ার্থ -

দুর্জন বা খল ব্যক্তির অপকর্মের ফল প্রায়শই এমন হয় যে, একজন ব্যক্তিকে আঘাত করা হলেও, তার কুফল বা পরিণতি ভোগ করতে হয় অন্য নির্দোষ ব্যক্তিকে।

এখানে 'খলরূপী ভুজঙ্গ'(দুর্জন সাপ) প্রতীকী অর্থে এমন এক অসৎ ব্যক্তিকে বোঝায়, যে পরোক্ষভাবে বা কূটকৌশলে ক্ষতি সাধন করে। তার আঘাতের লক্ষ্যবস্তু হয়তো একজন, কিন্তু সেই আঘাতের প্রকৃত ফল বা চরম পরিণতি ভোগ করে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি, যে হয়তো সেই সংঘাতে সরাসরি জড়িতও নয়। এটি এক ধরনের চাতুর্যপূর্ণ বা ছদ্মবেশী আক্রমণ, যেখানে অপরাধী নিজের হাত নোংরা না করে বা সরাসরি নিজেকে প্রকাশ না করে অন্যের মাধ্যমে ক্ষতিসাধন করে অথবা তার কৃতকর্মের প্রভাব অন্য নিরীহ মানুষের ওপর গিয়ে পড়ে।

 

বর্তমানকালে প্রাসঙ্গিকতা -

এই শ্লোকটি আধুনিক সমাজেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এর কয়েকটি দিক নিচে উল্লেখ করা হলো:

 * মিথ্যা তথ্য ও গুজব: আজকের ডিজিটাল যুগে, মিথ্যা তথ্য বা গুজব (fake news) ছড়ানো একটি বড় সমস্যা। একজন ব্যক্তি হয়তো কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে একটি মিথ্যা খবর ছড়ায় ("কানে দংশন করে"), কিন্তু এর প্রভাবে সমাজে অস্থিরতা, ঘৃণা বা দাঙ্গা সৃষ্টি হয়, যার ফল ভোগ করে সাধারণ মানুষ ("অন্যের প্রাণ বিয়োগ হয়")। গুজব ছড়ানো ব্যক্তিরা প্রায়শই আড়ালে থাকে।

 * রাজনৈতিক চক্রান্ত ও দুর্নীতি: রাজনীতিতে প্রায়শই এমন ঘটনা দেখা যায় যেখানে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য নানা চক্রান্ত করে। এক্ষেত্রে, একজন রাজনীতিবিদ হয়তো অন্যজনকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু এর ফলস্বরূপ জনগণের আস্থা নষ্ট হয়, উন্নয়ন ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্নীতির ক্ষেত্রেও দেখা যায়, উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা অবৈধ সুবিধা নিলেও তার চূড়ান্ত চাপ পড়ে সাধারণ নাগরিকদের ওপর, যেমন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা পরিষেবার অবনতি।

 * কর্পোরেট অনিয়ম: বড় বড় কর্পোরেশন যখন অনৈতিক ব্যবসায়িক নীতি অবলম্বন করে, যেমন পরিবেশ দূষণ বা শ্রমিকদের শোষণ, তখন হয়তো তাদের সরাসরি কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না, কিন্তু সেই দূষণের শিকার হয় সাধারণ মানুষ বা শ্রমিকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এখানে কর্পোরেট হলো "খল ভুজঙ্গ", আর ক্ষতিগ্রস্ত হয় জনগণ।

 * সাইবার অপরাধ: সাইবার হামলার ক্ষেত্রে প্রায়শই দেখা যায়, একজন হ্যাকার দূর থেকে কারোর অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে বা ডেটা চুরি করে ("কানে দংশন"), কিন্তু এর ফলে আর্থিক ক্ষতি, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস বা মানসিক হয়রানির শিকার হন অন্য কোনো নিরীহ মানুষ ("প্রাণ বিয়োগ হয়")।

 * সামাজিক বিভাজন ও উস্কানি: কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সমাজে বিভেদ সৃষ্টির জন্য উস্কানিমূলক কথা বলে বা বিদ্বেষ ছড়ায়। এর প্রত্যক্ষ লক্ষ্য হয়তো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সম্প্রদায়, কিন্তু এর সামগ্রিক ফলস্বরূপ সমাজে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং অনেক নিরীহ মানুষ এর বলি হয়।

 

সংক্ষেপে, এই শ্লোকটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দুর্জনের কার্যকলাপের প্রকৃতি এমনই যে, তাদের দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতির প্রত্যক্ষ শিকার না হয়েও অনেক নিরীহ মানুষ পরোক্ষভাবে তার ফল ভোগ করে। তাই সমাজে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং তাদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।


নেট ফড়িং সংখ্যা - ৩০৯

Edit Posted by with No comments

পুরনো ডায়েরি - পার্থসারথি

Edit Posted by with No comments

 

পুরনো ডায়েরি

পার্থসারথি 

জাফর সাহেব তার পুরনো বাড়ির পেছনের দিকের একটি ভাঙা ঘরে কিছু পুরনো জিনিসপত্র খুঁজতে গিয়েছিলেন। ঘরটা অনেকদিন ধরে বন্ধ ছিল, ধুলো আর মাকড়সার জালে ভর্তি। একটা পুরনো সিন্দুকের মধ্যে তিনি একটি ডায়েরি খুঁজে পেলেন। ডায়েরিটা বহু পুরনো, পাতাগুলো হলুদ হয়ে গেছে আর বাঁধাই প্রায় খুলে এসেছে।
ডায়েরিটা খুলতেই একটা ঠান্ডা স্রোত তার শরীরে অনুভূত হল। তিনি প্রথমে পাত্তা দেননি, ভেবেছিলেন বদ্ধ ঘরের বাতাস। কিন্তু যখন তিনি ডায়েরির পাতা উল্টাতে শুরু করলেন, ঠান্ডা অনুভূতিটা আরও বাড়তে লাগল। ডায়েরির লেখাগুলো আবছা, পুরনো দিনের বাংলা হরফে লেখা।
প্রথম কয়েক পাতা পড়ার পরেই জাফর সাহেবের শরীরে কাঁপুনি ধরল। ডায়েরিটা এক মহিলার, যিনি এই বাড়িতেই থাকতেন এবং ভয়ানক কষ্টের মধ্যে জীবন কাটিয়েছেন। তার স্বামী তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত। দিনের পর দিন তার আর্তনাদ আর কষ্টের কথা ডায়েরির পাতায় লেখা ছিল। শেষ কয়েক পাতায় লেখা ছিল তার আত্মহত্যার কথা, বিষ খেয়ে তিনি মুক্ত হতে চেয়েছিলেন।
জাফর সাহেব ডায়েরিটা বন্ধ করে ফেললেন। তার মনে হল যেন সেই মহিলার কষ্টগুলো তিনি নিজের শরীরে অনুভব করছেন। ঘর থেকে বের হতে গিয়ে তিনি পিছন ফিরে তাকালেন। আবছা অন্ধকারে মনে হল যেন কেউ দরজার পাশে দাঁড়িয়ে তার দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে আছে। ভয়ে তার গলা শুকিয়ে গেল, তিনি দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।
রাতে বিছানায় শুয়েও জাফর সাহেবের ঘুম আসছিল না। সেই মহিলার কষ্টের কথা তার মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। হঠাৎ তিনি শুনতে পেলেন কেউ যেন ফিসফিস করে কাঁদছে। আওয়াজটা খুব দুর্বল, যেন অনেক দূর থেকে আসছে। তিনি কান খাড়া করে শুনলেন, আওয়াজটা যেন সেই ভাঙা ঘরটা থেকেই আসছে।
সাহস করে তিনি ঘর থেকে বের হলেন এবং টর্চলাইট হাতে সেই ভাঙা ঘরের দিকে গেলেন। দরজা খুলে ভেতরে আলো ফেলতেই সবকিছু চুপ হয়ে গেল। ঘরটা যেমন ছিল তেমনই, শুধু ধুলো আর মাকড়সার জাল। কিন্তু জাফর সাহেবের মনে হচ্ছিল যেন কিছুক্ষণ আগেই এখানে কেউ কাঁদছিল।
পরের কয়েক রাত জাফর সাহেব ঘুমাতে পারলেন না। প্রতি রাতেই তিনি সেই কান্নার আওয়াজ শুনতে পেতেন। কখনও আওয়াজটা খুব কাছে মনে হত, কখনও আবার অনেক দূরে। তিনি বুঝতে পারছিলেন, সেই অভাগী মহিলার আত্মা এখনও শান্তি পায়নি এবং তার কষ্টগুলো যেন এই বাড়ির বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে।

Jul 13, 2025

নেট ফড়িং সংখ্যা - ৩০৮

Edit Posted by with No comments