Sep 10, 2021

নেট ফড়িং জন্মদিন সংখ্যা - ২০২১

Edit Posted by with No comments

Sep 5, 2021

নেট ফড়িং সংখ্যা - ২০৯

Edit Posted by with No comments

Aug 29, 2021

নেট ফড়িং সংখ্যা - ২০৮

Edit Posted by with No comments

Aug 28, 2021

লেখকের চোখে নেট ফড়িং

Edit Posted by with No comments

লেখকের চোখে নেট ফড়িং

লিখেছেন- মৌমিতা ভাওয়াল দাস

 

নেট ফড়িং নামটা শুনলেই একটা উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয় ম্যাগাজিনটি পড়ার। আমার ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল। পড়তে শুরু করে দেখি বিভিন্ন পাঠকের ভিন্ন রসের কবিতা ও গল্প রয়েছে এই ম্যাগাজিনে। কবিতা ও গল্পগুলির  সাথেই আমাদের এই অচেনা উত্তরবঙ্গের আনাচে-কানাচে, অলিগলির ছবি ফুটে উঠছে এর স্তরে স্তরে। ম্যাগাজিনটি আমাদের বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ গুলিকে মাথায় রেখে প্রতিমাসে ভিন্ন স্বাদের লেখা আমাদের উপহার দেয়। তবে শুধু কবিতা বা গল্প নয় বিভিন্ন নামকরা বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়া, ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, হাতে আঁকা ও তোলা ছবি স্থান পায় এই ম্যাগাজিনের পাতায়-পাতায়। এক কথায় বলতে গেলে শিল্পীর সৃষ্টিকে করে সযত্নে জনসমক্ষে প্রস্তুত করে নেট ফড়িং এর কর্তৃপক্ষ। এই ভালোবাসা ও লালিত্যের আমিও কিছুটা স্বাদ পেয়েছি বলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। এভাবেই এগিয়ে যাক নেট ফড়িং। আরো প্রশস্ত হোক তোমার চলার পথ। ভালো থেকো নেট ফড়িং।


Aug 22, 2021

নেট ফড়িং সংখ্যা - ২০৭

Edit Posted by with No comments

Aug 21, 2021

দায়িত্ব

Edit Posted by with No comments

 

দায়িত্ব

দীপজ্যোতি গাঙ্গুলী

 

বাসুদেববাবুর স্ত্রী হঠাৎই মারা গেলেন আজ ভোরে। গতকাল রাতেও বেশ স্বাভাবিক ছিলেন। ঘুমের মধ্যেই স্ট্রোক। বাসুবাবুর সাথে ওনার যে খুব মিল ছিল তা নয়। বাসুবাবু ব্যাবসায়ী মানুষ সারাদিনই প্রায় বাইরে বাইরে থাকতে হয়। আর তাছাড়াও দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছরের বৈবাহিক জীবনে ওনারা ছিলেন নিঃসন্তান। তাই কানাঘুষোয় একবার শুনেছিলাম ওনারা নাকি ইদানীং আলাদা ঘরে শোন।

সরকারী হাসপাতাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট নিয়ে বডি রিলিজ করার পর বাসুবাবুই বডি নিয়ে আসেন বাড়িতে। আত্মীয়-স্বজন বলতে মীরা দেবীর দুঃসম্পর্কের এক ভাই আর এক মামাতো বোন। খবর পেয়ে ওনারাও এসেছিলেন শেষ দেখা দেখতে।

এখন বিকেল চারটা। শেষকৃত্য করে সদ্য বাড়ি ফিরলেন বাসুবাবু। যারা এসেছিলেন তারাও ফিরে গিয়েছেন। হঠাৎই কেমন যেন একা মনে হল ওনার। দীর্ঘদিন কথা না হলেও পাশে পেতেন মীরা দেবীকে আজ কেমন যেন খালি খালি লাগছে। ওনাদের সম্পর্কে মধুরতা না থাকলেও স্ত্রী হবার দায়িত্ব সবসময় পালন করে গেছেন মীরা দেবী। এসব ভাবতে ভাবতে ডাইনিং রুমে গিয়ে ফ্রিজটা খুললেন বাসু বাবু। আর তখনই থমকে গেলেন, ফ্রিজে পড়ে আছে গতরাতের রান্না করা বাসি খাবারগুলো। হঠাৎ মনে হল কেউ যেন পাশ থেকে বলল, "সারাদিন কিছুই তো খেতে পারোনি। এগুলোই গরম করে খেয়ে নাও। এখন তো নিজেকেই সবটা সামলাতে হবে।" ওখানেই আটকে গেলেন বাসুবাবু। গলাটা নিজের অজান্তেই ভারী হয়ে আসলো।

তাহলে কি মরে গিয়েও স্ত্রী এর দায়িত্ব পালন করে গেলেন মীরা দেবী?


লেখকের চোখে নেট ফড়িং

Edit Posted by with No comments

 


লেখকের চোখে নেট ফড়িং

লিখেছেন- ব্রততী দাস

 

কিছু জিনিস আমাদের জীবনে আলাদা এক অনুভূতির জায়গা নিয়ে থাকে। আমার কাছে নেটফড়িং অনেকটা তাই। নিজের মত করে নিজের ভাবনাগুলো সাজিয়ে রাখতাম অনেক ছোটবেলা থেকেই, কিন্তু বলা হয়ে ওঠেনি কখনও কাউকে। আমার সেই না বলা কথাগুলো বলার মত বন্ধু হল নেটফড়িং।

আমার লেখা প্রথম প্রকাশ পায় এই পত্রিকার হাত ধরেই। সেই দিনটার অনুভুতি আজও আমার কাছে অমলিন। তারপর হয়তো আরও অন্যান্য পত্র-পত্রিকায় লেখা পাঠিয়েছি, প্রকাশও পেয়েছে। কিন্তু জীবনের প্রথম সবকিছুই সবার থেকে আলাদা। সেই আবেগটা কোনকিছুর সাথেই তুলনীয় নয়। আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

নেটফড়িং এর হাত ধরেই পরিচয় হয় বহু লেখকের সাথে। তাদের কেউ বেশ অভিজ্ঞ আবার কেউ আমার মতই আনকোরা। নেটফড়িং এর কৃতিত্বটাই এখানে, নতুনের সাথে পুরোনোর পরিচয়। আমরা যারা একেবারেই অনভিজ্ঞ তারা যেমন শিখেছি অনেক কিছু আবার নিজের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছি সকলের সাথে। নিজেকে প্রকাশ করার যে সুযোগ নেটফড়িং আমাকে দিয়েছে তার জন্য আমি নেটফড়িং এর কাছে সত্যি কৃতজ্ঞ।

নেটফড়িং এর জন্য সবসময় থাকবে আমার শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা। আগামীতে আমাদের নেটফড়িং আরও এগিয়ে যাক, আরও বেশি বেশি মানুষের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিক এই আশা রাখি।


Aug 20, 2021

সালটা ২০৮৫

Edit Posted by with 1 comment

 


সালটা ২০৮৫

সম্রাট মণ্ডল

 

কালকেই আমার ৮৫ বছরের জন্মদিন পালন হল। কদিন ধরেই শরীরটা একটু খারাপ। তাই আর দুপুরে ঘুম হচ্ছে না ঠিকঠাক। সেইজন্য বিছানা ছেড়ে উঠে নাতনিটার ঘরে গেলাম। আজকে আমার স্ত্রী সুপর্ণার কথা খুব মনে পড়ছিল। যে ৫ বছর আগেই আমায় একা ফেলে চলে গেছে। একদম সুপর্ণার মতন দেখতে আমার নাতনিটাকে। গেলাম গিয়ে দেখছি ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে। আমি জিজ্ঞাস করলাম “কি করছো দিদিভাই”। উত্তরে আমায় বলল “উফফ Grandpa! তোমায় না কতবার বলেছি আমাকে ওসব দিদিভাই বলে ডাকবে না। You call me Grand-daughter”। কিন্ত কি করবো অভ্যাস হয়ে গেছে। আমায় নাতনি বলল “তুমি একটু এখানে বসো আমি পড়তে যাবো এখনই খেয়ে আসছি” এই বলে চলে গেলো। হাতের কাছে ল্যাপটপটা দেখে ভাবলাম একটু ফেসবুকটা খুলি। প্রায় ১০ বছর হয়ে গেলো আর খুলি না। পাসওয়ার্ড ও User Id টা কোনোরকম কষ্ট করে মনে করলাম করে খুললাম। দেখি অনেক গুলো Inbox এসছে। প্রথমেই এসছে আমার সব থেকে কাছের বন্ধু মৈনাকের। প্রায় ৪ বছর আগে আমায় Message করেছে। লেখা আছে “ভাই তুই কোথায়? আমার শরীর ভালো নেই। আর মনে হয় বেশিদিন বাঁচবো না। একবার একটু দেখা করে যা”। পরক্ষনেই মনে পড়লো ও মারা গেছে পাঁচ বছর আগে। আর এই Message টা ছিল মারা যাওয়ার ২ দিন আগের। পরবর্তী Message ছিল ৪ বছর আগের, আমার আর এক বন্ধু সৌরভের। লিখেছে “ভাই আজকে ছেলে ও তাঁর বৌ বাড়ি থেকে বার করে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে দিলো আমায় ও আমার স্ত্রীকে। এই দিনের জন্যই কি আমরা ছেলেকে বড়ো করি”? এই কথাটা শুনে একটু খারাপ লাগলো। তাই Message box থেকে বেরিয়ে Search Bar এ গেলাম। ভাবলাম যে মানুষটা ৬০ বছর আগে একসাথে থাকবে বলেছিল সেই মানুষটা কি কেমন আছে একবার দেখি। Search করলাম Bela Bose। প্রথমেই ওর Profile টা খুললও। দেখলাম শেষ ছবি Post করেছে আজ থেকে ২ বছর আগে, তাঁর স্বামী, ছেলে, বউমা ও নাতি কে নিয়ে। হ্যাঁ এই সেই Bela Bose যে সাথে থাকার কথা দিয়েছিল। কিন্ত সম্পর্কটা আর পূর্ণতা পায়নি। নীচে ফোন নম্বর দেওয়া ছিল। সেই ৬০ বছর আগের নম্বর। সেই নম্বরে নাতনির ফোনটা নিয়ে ফোন লাগালাম। অপরদিকে বলে উঠলো এই নম্বরের কোন অস্তিত্ব নেই। খুব খারাপ লাগলো তাই চুপ করে বসেছিলাম। তখন হঠাৎ নাতনি এসে বলল “Grandpa এবার চলো আমায় পড়তে বেরতে হবে”। আমি বললাম “হ্যাঁ তুই ব্যাগ গোছা আমি যাচ্ছি”। ও হেঁসে বলল “কি যে বলো Grandpa এখন আর কি ব্যাগ গোছাবো। এখন সব Online-এ”। আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম “মানে ! Online বলে কি খাতা বই নিবি না”? ও উত্তরে আমায় বলল “কিসের খাতা বই? এখন সব কিছু Online, ল্যাপটপ, Computer, মোবাইল ছাড়া পড়াশোনা আর হয় না বুঝলে। তুমি বড্ড Back Dated”। এই বলে সে চলে গেল। ও যাওয়ার পর আমি ভাবতে লাগলাম আমি কি সত্যিই Back Dated? এসব জিনিস যখন প্রথম এসছিল আমরা সবার আগে ব্যাবহার করেছিলাম। আমরা তো আমাদের বন্ধুত্বটাই ভুলে গেছিলাম এসবের পিছনে পরে। আমাদের প্রেম হতো WhatsApp, Facebook, Instagram-এ। প্রথম Online Class এসব ল্যাপটপ, Computer, ফোন ব্যবহার করে আমরাই শুরু করেছিলাম। আমরাই তো বলতাম যে যা হচ্ছে ঠিক হচ্ছে। সব কিছু Online হোক এটা আমরাই তো চাইতাম। আসলে আমরা তখন বুঝিনি সব কিছু Online হয় না। তাই আজকে আমার বন্ধুরা সবাই একে একে ছেড়ে চলে গেছে কিন্ত সেটা আমায় জানিয়েছে  Facebook এর মাধ্যমে। আমরাও তো একসময় বলতাম বয়স্ক মানুষদের যে তোমরা জোর করে Online জিনিস সম্পর্কে জানো। আমরা তো মাঝে মাঝে ভাইফোঁটাও নিতাম Online-এ। নিজের ভালোবাসার মানুষের সাথে একটা কোন ছোট Gift কিনে অনেক দিন পর দেখা করতে যাওয়া জিনিসটা তো আমরা ভুলেই গেছিলাম। ইচ্ছা হল Flipkart বা Amazon–এ Order করে দিলাম। নিজের হাতে দেওয়ার ইচ্ছাটাই মরে গেছিলো। আমরা Facebook-এ Profile Check করা পছন্দ করতাম কিন্ত সামনা সামনি দাঁড়িয়ে কথা বলাটা নয়। আমরা কোন ভালো জিনিস নিজের চোখে দেখাটাই ভুলে গেছিলাম। কোন ভালো জিনিস দেখলে আগে ফোন বার করে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলাম। কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করলে আমরা একসাথে বসে করতাম না। ওই একটা WhatsApp গ্রুপ খুলে দিলাম, হয়ে গেলো। আমরা তো নিজেই জানি না কতদিন হয়ে গেলো কারোর সাথে সামনা সামনি ঠিক ভাবে দাঁড়িয়ে কথাই বলিনি। যা কথা বলার থাকতো সবই বলতাম WhatsApp, Facebook, Instagram-এ। আর আজকে আমি Back Dated। আমরাও অনেক মানুষকে বলতাম Back Dated মানুষ ওরা ওসব Online বোঝে না। কিন্ত Online-এ সুখি থাকার থেকে এই Offline-এ সুখি থাকাটাই খুব বেশি জরুরি।


Aug 19, 2021

প্রেমের ছবিগুলো

Edit Posted by with No comments

 


প্রেমের ছবিগুলো

কৌশিক পাল

 

মাঝখানে প্রেমটা এত উৎপাত শুরু করল, যে রোজ রাতে একবার ওর বুকের গন্ধটা সারা মুখে না মাখলে ঘুম হত না। মাঝে মাঝে তো আমার সর্বাঙ্গ নিশপিশ করে উঠত ওর দেহের ঝলকানিতে। গিলে ফেললে তো সব শেষই হয়ে যেত, নাহলে গিলেই ফেলতাম এতদিনে! কতটা সুন্দর ও, তা জানি না। কার কাছে কেমন, তা'ও জানি না। কে কোন চোখে দেখে ওকে, তা জানা তো একেবারেই অসম্ভব! যদিও খুব একটা বাড়ি থেকে বের হয় না ও। যতটুকু সময় শপিং-এ বা দোকানে যেত,ততটুকুই যা বাইরে।আর আমার সঙ্গে ক-দিন যা ঘোরাফেরা- ততটুকুই বিয়ের পর।

প্রথমে একটু নতুন নতুন ভাব, দুজনকেই একটু লজ্জা আর চরিত্রকে সঙ্গে নিয়ে সমঝে চলতে হত। তারপর, দুজনেরই একদিন প্রায় একসাথেই একরাতের মধ্যে সব লজ্জা উধাও! তারপর কতকগুলো রাত যে এমনি ভাবে কাটতে লাগলো, যেন সেগুলোকে রসলীলা ছাড়া আর কিছু বলা চলে না। খুব বেশিদিন হয়নি তখন। ষাট-সত্তর দিনের দাম্পত্য জীবন- আর তাতেই এত...

আজ দাম্পত্য জীবনের পুরো দুশো একদিন। আমার লেখালেখির ঘরটা এলোমেলো হয়ে পরে আছে। ঘরের একদিকে আমার লেখালেখির কাগজপত্র ও খাতার আলমারি। দু'দিন হল, সেটাকে ফাঁকা করে দামী বিদেশি মদ এনে সাজিয়েছি। ও জানে না খবরটা। শুধু আমায় একব্যাগ ভর্তি ফল আর ড্রাই ফ্রুটস আমার ঘরে নিয়ে যেতে দেখেছে। কিছুই বলেনি তেমন। মনে অবশ্যই খটকা লেগেছে ওর, কারণ ফ্রিজ ভর্তি এত ফল সবকিছু থাকতে আবার আমি এত কিনে এনেছি! তাই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার।

গতকাল থেকে বন্যার স্রোতের মতো মদ আর ফল খেয়েছি।এ ঘরে ওর আনাগোনা নেই বললেই চলে। আর এঘরে কারও ঢোকাটাও আমি পছন্দ করি না। আমার স্মার্ট ফোনটা সারাক্ষণই প্রায় আমাদের শোবার ঘরে থাকে।খুব দরকার হলেই আমাকে ও ফোনটা এনে দেয় এ ঘরে।তাতে আমি খুব একটা আপত্তি করি না। আমার বিশাল টেবিলটার, মাঝখানে রাখা টেলিফোন। সারাদিন ওখানেই বেশি ফোন আসে। আর ও এঘরে আমাকে খাবার দিতে বা অন্য কোনো কাজ থাকলে টেলিফোনে ফোন করে অনুমতি নিয়েই আসে। আমি ওকে অবশ্য অনুমতি নিতে বলিনি কোনোদিন, তবুও ও অনুমতি নিয়েই আসে।

গত চারদিন ধরে একটা অচেনা গলা আমাকে বারে বারে ফোন করে, আমার গলাকে তার গলার বন্ধু বানাতে চাইছে।আমার যে ঘরে স্ত্রী রয়েছে, সে হয়তো জানে অথবা জানে না! নিজের পরিচয় তো দূরের কথা, নামটা পর্যন্ত বলেনি! তবুও একটা অদ্ভুদ জাদু আছে ওর গলায়! আমার অনুরাধার দেহের টানের থেকেও যেন হাজার শক্তিশালী এই মেয়েটার গলা! শুধু বলে ওর নাকী আমার লেখা খুব ভালো লাগে, একটা বইমেলায় আমাকে দেখেছে,আমার সাথে নাকি একটা সেলফিও নিয়েছে! আমার সবকটা বই ওর কেনা। ঘরে নাকি প্রতিদিন ওই বইগুলোর গন্ধ শুকে আমাকে অনুভব করে! আর এখন নাকি আমাকে বিয়ে করতে চায়!সবচেয়ে বিস্ময়কর এই শেষের বাক্যটা!

সে তো কত মেয়ে-গুরুজন-বন্ধু-মহিলা - হাজারটা লোকের সাথে কথা হয় রোজ।কত লোক আমার সাথে সেলফি তুলেছে,কত বইমেলা করেছি-গিয়েছি,তাকে কি মনে রাখা সম্ভব?কিন্তু ও যখনই ফোন করে কথা বলে, আমাকে যেন হিপ্নোটাইস করে দেয়!আমার যে স্ত্রী রয়েছে সেটা বলতে গিয়েও, যেন কথা পালটে যায়! কী আশ্চর্যের ব্যাপার!

দু'দিন ধরে অজস্র ফোন এসেছে,একটাও ধরিনি। অনুরাধা অনেকবার ফোন করেছে এমনকি দরজাও চাপড়েছে এই বলে যে,"কি গো কী হল?খাবার খাবে না? ঘরেই থেকে যাবে নাকি?"

আমি শুধু একটামাত্র হ্যাঁ, না সাড়া দিয়ে চুপ করে যেতাম। অনুরাধাও খায়নি বোধ হয় দু'দিন।কারণ আমি তো জানি যে ও আমাকে কতটা ভালোবেসে ফেলেছে;আর আমিও কম নয়।

আবার আজ রাত আটটায়, ওই একই অচেনা গলাটা ফোনটা তুলতেই কানে এল।যেন আমায় ওর গলায় গ্রাস করতে চায়! এত মদ খেয়েছি যে গলা বসে গেছে। কিন্তু ওই মেয়েটার অভাবনীয় মধু মাখা মিষ্টি গলাটা কানে পড়তেই, যেন একনিমেষে সব নেশা কেটে গেল! শুধু ওর কথা শুনে যাচ্ছিলাম নির্বিবাক হয়ে। তারপর ফোনটা ও কাটলো নাকি এমনিই কেটে গেল, তা ঠিক বুঝতে পারলাম না। তাই ইতিমধ্যে দুটো ন্যাশপাতি,তিনটে আপেল, একবাটি কাজু আর দুবোতল মদ খেয়ে এই এতটুকু লিখতে বসেছি।রাতে অনুরাধা শুধু দুবার দরজা ধাক্কা দিয়ে খাবার কথা বলে গেল। আমি রীতিমতো সাড়া দিয়ে উঠতে পারিনি, তাই হয়তো ঘুমিয়েছি ভেবে রাগে ফোনও করেনি।

আজ তিনদিন। টেবিলের তলায় মদের প্যাকেট ও বোতলে ভরে গেছে।টেবিলের উপর একটা বোতল ছিল, কিছুটা মদ ছিল তখনও।ঘুম থেকে উঠেই গেলাসে অর্ধেকটা রেখে, ওটা শেষ করলাম আগে। কী যেন একটা পাখির ডাক শুনতে পেলাম।আর তাতেই হয়তো ঘর থেকে বেরিয়ে দরজায় খিল দিয়ে দৌড়ে ছাদে গেলাম। বেশ একটা ফ্রেশ সকাল মনে হল। অনেকক্ষণ ছাদে কাটানোর পর নীচে নেমে সোজা গেলাম শোবার ঘরে। দেখি বিছানা গোছানো। ফোনটা আমার বালিশের পাশে। বাথরুমে গিয়ে বুঝলাম,অনুরাধা একটু আগেই বোধ হয় স্নান সেরে বের হল।তারপর হালকা হয়ে সকাল সকাল স্নান সেরে রান্নাঘরে যেতেই দেখি ও চা বানাচ্ছে।প্রথমে একটাই কাপ ছিল,তারপর আমার জুতোর আওয়াজ ও শ্যাম্পুর গন্ধ পেয়ে আরেকটা কাপ বের করতে করতে বলল-"চা-টা কি দরজা বন্ধ করেই খাবে? নাকি বারান্দায় দেব?"

আমি বললাম-"বারান্দাতেই দাও, আর ঠাট্টা কোরো না।" পাছে হয়তো কথা বাড়ে, তাই ও আর কিছু বললো না।আমি সোজা গিয়ে বারান্দায় বসলাম। ট্রেতে দুটো এলাইচি দুধ চা ও সাথে আমার প্রিয় বিদেশি বিস্কুট। ও আর কিছু বলল না তখন।চা-টা শিগগির শেষ করে ও সামনের বিরাট ফুল বাগানে চলে গেল,গাছে জল দিতে। আমি বারান্দায় বসে অনেকক্ষণ ধরে অনুরাধাকে পর্যবেক্ষণ করলাম। ভারী মিষ্টি লাগছিল সালোয়ার কামিজে। বিয়ের পর একদিন আমায় বলেছিল, যে বিয়ের আগে ও জিন্স পড়ত।বাবা সেসব পছন্দ করেন না জন্য আর পড়েনি। আমার ওসবে আবার কোনোরকম আপত্তি নেই।কারণ নারীকে তাঁর পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। আর তারপরই তো সমাজকে চেনা যাবে।

সিগারেট বা তামাকের নেশা আমার নেই। এমনকি মদেরও না। তারপর হঠাৎ দু'দিনের কথা সব মনে পড়ে গেল। ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে টেবিলে বসতেই একটা খুব পরিচিত গন্ধ পেলাম। গেলাসের চারপাশে মদের ফোঁটা পরে আছে। গেলাসটা হাতে নিয়ে নাকের কাছে নিতেই পুরোনো টাটকা গন্ধটা পেলাম। যে গন্ধের সাথে আমার কদিন আগে পর্যন্ত পরিচয় হত রোজ রাতে, ঘনিষ্টভাবে, সেই গন্ধ-অনুরাধার বুকের গন্ধ। ওর গলার হিরেটা গ্লাসে পড়েছিল, নয়তো ও এই দু'দিনের লেখাটা পড়েই হিরেটা গ্লাসে ডুবিয়েছিল। আমি একথা জোর দিয়ে বলতে পারি।আর তাই টেবিলে মদের ফোঁটা পড়ে রয়েছে।

ওকে আমি হিরেটা ফুলশয্যার রাতে দিয়েছিলাম। সেকথা ভাবতে ভাবতেই অনুরাধার বুকের গন্ধমিশ্রিত মদ খেয়ে শুয়ে পড়লাম বিছানায়।গা-টা মোচড় দিতেই যেন একটু ঘুম ঘুম পেল।সেসময় শুধু অনুরাধার মুখটা আর রাতগুলো মনে পড়ছিল।

তারপর দেখি হঠাৎ অনুরাধা ঘরে খাবার ও ফোনটা একসাথে এনে টেবিলে রেখে আমাকে ডাক দিচ্ছে,আর বলছে-"কী গো অনিরুদ্ধ ওঠো,দু'টো বাজে যে!খাবার এনেছি আমাদের। আমি আর তুমি একসাথে খাব আজ এঘরে। ফোনটাও এনেছি। অ্যানা নামের ওই মেয়েটি টেলিফোনে না পেয়ে এন্ড্রয়েডে ফোন করেছিল অনেকবার। মনে হয় তোমার 'প্রেমের ছবিগুলো' বইটি আরও দুকপি নেবে।

"কী গো ওঠো; সেই যে রাতে বিনা গন্ধে ঘুমিয়েছো!"


Aug 15, 2021

নেট ফড়িং সংখ্যা - ২০৬

Edit Posted by with No comments

Aug 13, 2021

রাজযোগ

Edit Posted by with No comments

 


রাজযোগ

সোমনাথ বেনিয়া

 

জ্যোতিষী ঠিকুজি বিচার করে বললো, "এ তো রাজযোগ। ছত্রিশে আঠাশ এসেছে। একটা গ্রহ শুধু মেলেনি। না হলে ছত্রিশে ছত্রিশই হতো। তবে চিন্তা নেই। এ বিয়ে হতে পারে।"

বিয়েতে পাত্র-পাত্রী সাতপাক ঘোরার পর সেখানে উপস্থিত অনেকেই বললো, "আরও একপাক বাকি আছে। ভুল গোনা হয়েছে।" বিয়ে বাড়িতে যেমনটি হয় আর কী! পাত্র ভাবলো সাতের বদলে এক্সট্রা একপাক দিয়ে আটপাক করে নিলে আঠাশ, ছত্রিশ হয়ে যাবে। রাজযোগ ! অসুবিধা কোথায়? যথারীতি আরও একপাক ঘোরা হলো। বন্ধন দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হলো।

ঘুম ভেঙে গেল পাত্রের ফোনের রিংটোন বাজতেই। হ্যালো বলতেই ওপারের কণ্ঠস্বর, "আজকে ডিভোর্সের পিটিশন ফাইল করবেন তো !" পাত্র "ভাবছি" বলে ফোন কেটে দিলো। এখন সে ভাবছে অতিরিক্ত একপাকের জন্য গ্রহ কীভাবে তার কক্ষপথ বদলে ফেললো যে তাদের দৃঢ়তর বন্ধন নিমেষে এতটা আলগা হয়ে গেল...


লেখকের চোখে নেট ফড়িং

Edit Posted by with No comments

 


লেখকের চোখে নেট ফড়িং

লিখেছেন- তন্ময় দেব

 

প্রিয় নেটফড়িং,

১৪৮ তম সংখ্যায় প্রথম তোমার সঙ্গে আলাপ। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকায় পরিচয় আমাদের একটু দেরীতেই ঘটেছিল। কিন্তু তাতে তোমার সঙ্গে আত্মিকতায় কোনো অসুবিধা হয়নি।

আর ১৫০ তম সংখ্যায় প্রথম তোমার জন্যে লেখা পাঠানো ও সম্পাদকমণ্ডলীর বদান্যতায় সেই লেখা মনোনীতও হয়। এরপর একসাথে পথ চলতে চলতে আজ ২০০ তম সংখ্যাও অতিক্রান্ত।

ইত্যবসরে নয় নয় করেও ৪১টা কবিতা প্রকাশিত হয়েছে, পাঠকের ভালোবাসা পেয়েছে আর আমার ছোট্ট লেখার জগত বাঁক নিয়েছে নতুন দিকে। আমিও আমার কবিতায় এক্সপেরিমেন্ট করেছি, আমার চিন্তাভাবনার ছাপ রেখে যেতে চেয়েছি সমাজ, সভ্যতা, মানবিকতা, মানুষ ও বাংলা সাহিত্যের প্রতি।

আমার এই জার্নির একটা বড় অংশ জুড়ে তোমার এই উপস্থিতির জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।

কৃতজ্ঞ সেই সকল মানুষদের প্রতিও যারা আমার লেখাকে স্থান দিয়েছে তোমার পাতায়, কোন ব্যক্তিগত পরিচয়, মেসেজ কিংবা স্বার্থ ছাড়াই, শুধু সপ্তাহান্তে আমার ‘ওয়ার্ড ফাইল অ্যাটাচ করা একটা মেইল পেয়ে।

এভাবেই আরও শতশত সংখ্যা আসুক। আমরা সমৃদ্ধ হয়ে উঠি।