Jul 12, 2020

ফড়িং সাক্ষাৎ

Edit Posted by with No comments

অতিথি- “সপ্তদ্বীপা চৌধুরী (মডেল ও অভিনেত্রী)”
সাক্ষাৎকার ও অণুলিখন- দীপজ্যোতি গাঙ্গুলী 


নেটফড়িং অনলাইন ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোচবিহার তথা বাংলার বেশ কিছু মানুষ যারা নিজ নিজ কাজে অত্যন্ত পারদর্শী ও পরিচিত মুখ, তাদের মুখে তাদের জার্নি শুনে সেটা নেটফড়িং এর পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। গত সংখ্যার পর এই সংখ্যায় থাকছে আরও এক বিশেষ মানুষের সাক্ষাৎকার। মডেলিং থেকে অভিনয় সব ক্ষেত্রেই সে অনবদ্য। আজ আমাদের সাথে আছেন, মডেল, অভিনেত্রী, কোচবিহারের "ক্রাশ" সপ্তদ্বীপা চৌধুরী।

দীপজ্যোতি- নমস্কার দিদি, শুরুতেই তোমাকে স্বাগত জানাই নেটফড়িং আয়োজিত ‘ফড়িং সাক্ষাৎ’ এ।
সপ্তদ্বীপা- অনেক ধন্যবাদ।
দীপজ্যোতি - দিদি, তোমার কাছে আমার প্রথম জিজ্ঞাসা, এখন তো লকডাউন চলছে, মানে অনেকেই বলছিল একটা লম্বা ছুটি। কিভাবে কাটাচ্ছো এই লম্বা ছুটি?
সপ্তদ্বীপা - প্রথমত এই "লকডাউন" পিরিয়ডটাকে আমি "হলিডেস" এর তকমা দিতে রাজি নই।
আমরা একটা খুবই বাজে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি বিগত ৩ মাস ধরে। আবার অনেক সাধারণ জনগণের কাছে এটা হয়তো "লম্বা ছুটি" কারণ ফেসবুক টাইমলাইন থেকে শুরু করে ইন্সটা স্টোরি এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসেও রীতিমতো উইথ ক্যাপশন "হ্যাসট্যাগ হলিডে টাইমপাস" পোস্ট আমরা দেখতে পাই।
কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে এই "লকডাউন হলিডেস"টা "ওভারটাইম" এ পরিণত হয়েছে। হয়তো এই "সো-কল্ড" হলিডে শেষ হলেই তাদের রিলিফ হবে।
যাই হোক আশা করছি খুব তাড়াতাড়িই আমরা একটা করোনা-মুক্ত সুস্থ সকাল দেখতে পাবো।

এবারে আসি আমি কিভাবে কাটাচ্ছি এই সময়গুলো। শ্যুটের কারণে সাধারণত বাড়িতে খুব একটা সময় পেতাম না। তাই প্রথম যেটা করছি সেটা হল, বাবা-মায়ের সাথে প্রচুর আড্ডা দেওয়া, তাদেরকে সময় দেওয়া, তাদের সাথে নিজের সব কথা শেয়ার করা, আর তাদের কথাগুলো জানা। আর তাছাড়া আমি খুবই শৌখিন প্রকৃতির, তাই ঘর গোছানো আমার একটা বড় হবি। বিশেষ করে যথাস্থানে সব গুছিয়ে রাখতে আমার খুব ভালো লাগে। সেইজন্যে নিজের ঘর থেকে শুরু করে ড্রয়িং-রুম সবখানেই আমার গোছানো চলতে থাকে। 
তারপর মায়ের সাথের বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্টাল রান্নায় উঁকিঝুঁকি মেরে মাকে সাহায্য করা। এখন প্লিজ এটা জিজ্ঞেস কোরোনা যে আমি কি কি রান্না করেছি বা পারি কারণ এই কুকিং প্যাশনটা এখনও ঠিক আমার মধ্যে আসেনি...।।
এছাড়া আরও সময় কাটাচ্ছি ওয়েব সিরিজ, সিনেমা দেখে।

দীপজ্যোতি - মডেলিং থেকে অভিনয় দুটোতেই তুমি অনবদ্য। এই যে তোমার এতো সাকসেস এটা কি তোমার মধ্যে কখনো কোনো নেগেটিভ প্রেসার তৈরি করে?
সপ্তদ্বীপা - কখনই না। বেসিক্যালি আমি একজন খুবই পজিটিভ মানুষ। (হ্যাসট্যাগ স্টে-পজিটিভ)। নিজেতো পজিটিভ থাকিই আর তার সাথে সাথে আমি যে সার্কেলে যখন থাকি সেখানেও পজিটিভ ভাইবস দেই। আমি নেগেটিভিটির মধ্যেও পজিটিভিটি খুঁজি। সেটা আরও মজাদার।

দীপজ্যোতি - একটা কথা খুব শোনা যায়, যারা অভিনয় করছে বা মডেলিং করছে, তাদের অনেক রকম চরিত্র নিয়ে ঘাঁটতে হয়, অনেক চরিত্রকে আত্মস্থ করতে হয়। কখনো কি মনে হয়েছে এইসব চরিত্রের মাঝে তুমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছো?
সপ্তদ্বীপা - প্রত্যেকটি চরিত্রের একটা আলাদা সত্তা থাকে। চরিত্রের সাথে সাথে সেই চরিত্রের সত্তাটারও বদল হয়। কারণ আমরা যখন আলাদা আলাদা চরিত্রে অভিনয় করি তখন আমাদের সেই সত্তা তার মধ্যে প্রবেশ করতে হয়, অভিনয়কে আরও ফুটিয়ে তোলার জন্য। চরিত্রের মধ্যে প্রবেশ না করলে দর্শকের মনে সেই চরিত্রটি কখনই দাগ কাটতে পারেনা।
গ্রামের একটি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে তার ওই গ্রাম্য ভাব, সেই চরিত্রের সারল্য, তার কথা বলার ধরণ, হাঁটাচলা, আদব-কায়দা এগুলো আমাকে অবগত করতে হবে। আর তাতেই সেই চরিত্রটির সফলতা।
একটি চরিত্রকে যথাযথ ভাবে তুলে ধরার জন্য সেটা আত্মস্থ করা আবশ্যক। কিন্তু তাই বলে এটা নয় নিজেকে হারিয়ে ফেলা। কারণ আমি একটি অন্য সত্তার মানুষ। আর আমি যে চরিত্রটি করছি সেটা সম্পূর্ণ বিপরীত সত্তার, আর সেটা অন ক্যামেরা।
আর অভিনয় হল সেটাই নিজের থেকে বেরিয়ে সেই নির্দিষ্ট চরিত্রে ঢোকা। বাট এট দ্য এন্ড অফ দ্য ডে আমি কিন্তু আমিই থাকি। কারণ আমি আজ হয়তো একটা গ্রাম্য মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করছি, কাল হয়তো আধুনিক কোনও মেয়ের চরিত্রে করবো। আর আগের চরিত্র থেকে না বেরোতে পারলে আমি পরের চরিত্রে কখনই অভিনয় করতে পারবো না।

দীপজ্যোতি - মডেলিং এ আসা কাকে ফলো করে? মানে তোমার ইনস্পিরিশন কে?
সপ্তদ্বীপা - আমার ইনস্পিরিশন আমি নিজেই। কারণ আমি নিজের ভুল থেকে নিজে শিখি। নিজে কোনও কিছুতে বাধা পেলে সেটা থেকে নিজেই বেরিয়ে আসার চেষ্টা করি। আমার মতে আমি নিজেই আমার বড় কম্পিটিটর। নিজের সাথে নিজের দ্বন্দ্ব আমাদের এগিয়ে যেতে আরও সাহায্য করে।
প্রথমত ছোটবেলা থেকে কোনদিনও মডেলিং বা অভিনয়ের স্বপ্ন দেখিনি। তাই কাউকে ফলো করে এই প্রফেশনে আসাটা একদমই না।
ছোটবেলা থেকে নাচ, গান, কবিতাপাঠ, নাটক এসব নিয়ে উৎসাহী ছিলাম। এমনকি টেবিল টেনিস খেলাও শিখেছি। কিন্তু যা হয়, পড়াশোনার চাপে ক্লাস ১০ এর পর সব কিছুই কমে যায়। আর চর্চা না থাকলে মানুষ সেটা ভুলতে বসে। ক্লাস ১২ এর পর কলকাতায় কলেজ লাইফ শুরু হয়। গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করি মাস-কমিউনিকেশন নিয়ে। বরাবরই খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম। তাই মা বাবা ভেবেছিল হয়তো এম.এ শেষ করে সাংবাদিকতায় পিএইচডি করবো বা এই লাইনেই এগোবো। কিন্তু হঠাৎই চলে আসা মডেলিং এর প্রফেশন এ। আর সেখান থেকে অভিনয়। তারপর দু’বার ভাবতে হয়নি যে কোনটাকে আমার ক্যারিয়ার করবো। আর সব থেকে বড় পাওনা মা বাবার সাপোর্ট সেটা না হলে এই প্রফেশনে এতটা সাফল্য সম্ভব ছিলো না।

দীপজ্যোতি - এমন কোনো স্বপ্ন আছে জীবনে, যা কখনো পূরণ হবার মতো না? 
সপ্তদ্বীপা - এরকম আজব স্বপ্ন একটা নয় অনেকগুলোই আছে। তার মধ্যে দুটো মেনশন করছি।
একটা হল, চাঁদ থেকে পৃথিবীকে দেখা।
আর বারমুডা ট্রাই অ্যাঙ্গেলে যাওয়া। আসল সত্যিটা জেনে রহস্য উদঘাটন করতে।

দীপজ্যোতি - ওয়েব সিরিজ নিশ্চয়ই দেখো। প্রিয় ওয়েব সিরিজ কি?
সপ্তদ্বীপা - শুধু একটা নয় পছন্দের তালিকায় আছে পাঁচটি ওয়েব সিরিজ।

১ পাতাল লোক
২ স্পেশাল অপস
৩ পঞ্চায়েত
৪ অসুর
৫ আর্য


দীপজ্যোতি-  টলিউডে বা ওয়েবসিরিজগুলোতে কাজ করার ইচ্ছে আছে?
সপ্তদ্বীপা - অফার যে পাইনি সেটা বললে ভুল বলা হবে। আসলে ভালো চিত্রনাট্য না হলে সেই কাজের জায়গাটা কতটা খাঁটি সেটা না জেনে আমার পা বাড়ানোর ইচ্ছে নেই। সেটা সিরিয়ালই হোক বা ওয়েব সিরিজই হোক না কেন।

দীপজ্যোতি - আগামীতে যারা মডেলিং বা অভিনয় করতে চাচ্ছে তাদের জন্য কি বার্তা দেবে?
সপ্তদ্বীপা - Be focused on your own path...
Stay Positive always...
Ignore all kind of negativity...
Make bold Choices...
Increase your patience level...
Do whatever you want...
Always remind one thing -
“Criticism is an indirect form of self-boasting...
Criticism is like rain, should be gentle enough to nourish a man’s growth without destroying his roots.”

দীপজ্যোতি - তুমি তো মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেছো। মডেলিং নাকি অভিনয় কোনটা বেশি চ্যালেঞ্জিং? 
সপ্তদ্বীপা- দুটো দু-ধরণের ফিল্ড। একটার সাথে আরেকটার তুলনা করা যায় না।
মডেলিং ফিল্ডটা মেইনলি কনসেপ্ট, লুকস, ড্রেস-আপ, সেটআপ, মডেলের এক্সপ্রেশান এগুলোর ওপর নির্ভর করে। আর অভিনয়ের জন্য দরকার "অভিনয় করতে পারা"।

দীপজ্যোতি - একটা প্রশ্ন এটা শুধু আমার না এটা অনেকেরই প্রশ্ন। বলা যায় জাতি জানতে চায়। পরিচিতি পাওয়ার আগেও কি এতো প্রেম নিবেদন আসতো?
সপ্তদ্বীপা - এই প্রশ্নটা এক্সপেক্টেড ছিল। ফ্র্যাঙ্কলি স্পিকিং ক্লাস ৭-৮ থেকেই প্রপোজাল পাওয়া শুরু করেছিলাম। 
আমাদের সময় এই ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ জিনিসগুলো তো আর ছিলোনা। তাই চিঠিতে আর স্কুলের খাতার পেছনের পাতা ছিঁড়ে লিখে দিতো আর কি।
তারপর যত বড় হয়েছি প্রপোজাল এর সংখ্যাও বেড়েছে।
আর এখন বলে না, শেষ তিন বছর থেকে পরিচিত মুখ হবার পর সেটা আরওই বেড়েছে। ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে।
যা হয় না চিনে, না জেনেই প্রপোজ করে বসে। ইভেন, এখন তো সিনও করিনা। কারণ এত্ত মেসেজ বা ফ্রেন্ড-রিকোয়েস্ট আসে, নরমাল মেসেজেরও রিপ্লাই করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। তুলনামুলক বলতে পারো, আগের থেকে এখন অনেকটাই বেশি প্রপোজাল পাই।

শেষ কয়েকটা প্রশ্ন যেকোনো একটা অপশন বেছে নিতে হবে, বলতে পারো একটা র‍্যাপিড ফায়ার রাউন্ড।

  ফ্যাশন শুট নাকি ব্রাইডাল শুট ?
- ফ্যাশন শুট

  অনির্বাণ নাকি আবীর ?
- আবীর (আহঃ, দ্যাট স্মাইল)

৩ বাঙালিয়ানা নাকি ওয়েস্টার্ন ?
- দুটোই (এটা আসলে নির্ভর করে কোথায় যাচ্ছি বা কি রিলেটেড কনসেপ্ট তার ওপর)

৪ উইথ মেকআপ নাকি মেকআপ ছাড়া ?
- উইথ আউট মেকআপ বাট অনলি লাইট টাচ আপ। আমি হেভি মেকআপ পছন্দ করিনা। সেটা শুটেই হোক বা নরমাল আউটিং।

  মডেলিং না অভিনয় ?
- অভিনয়

  ইন্ডোর শুট না আউটডোর শুট ?
- আউটডোর শুট

৭ ফেসবুক লাইভ না ইনস্টা লাইভ ?
- ফেসবুক লাইভ

৮ কোচবিহার না কলকাতা ?
- অবশ্যই নিজের শহর কোচবিহার। (যদিও ৫ বছর) কলকাতায় থাকায় অই শহরটার প্রতিও একটা মায়া আছে)।

  বলিউড না টলিউড ?
- রিয়াল ট্যালেন্ট। (সেটা বলিউড হোক বা টলিউড)

১০  বই না সিনেমা ?
- সিনেমা।
  
অনেক ধন্যবাদ তোমাকে আমাদের সাথে থাকার জন্য, আমাদের কে এতটা সময় দেওয়ার জন্য। ভালো থেকো। তোমার আরোও সাফল্য কামনা করি।

প্রতিবেদনের-
ছবি- তন্ময় দে 
রুপ- সজ্জা- দেবলিনা

ফড়িং সাক্ষাৎ

Edit Posted by with No comments


অতিথি- “গৌর সাহা (চিত্রগ্রাহক)”
সাক্ষাৎকার ও অণুলিখন- দীপজ্যোতি গাঙ্গুলী


নেটফড়িং অনলাইন ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোচবিহার তথা বাংলার বেশ কিছু মানুষ যারা নিজ নিজ কাজে অত্যন্ত পারদর্শী ও পরিচিত মুখ, তাদের মুখে তাদের অভিজ্ঞতা শুনে সেটা নেট ফড়িং এর পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর সে জন্যই এই সংখ্যায় থাকছে এই বিশেষ বিভাগ ফড়িং সাক্ষাৎ। আজ আমাদের সঙ্গে আছেন কোচবিহার শহরের সেরা চিত্রগ্রাহকদের মধ্যে একজন, গৌর সাহা।


দীপজ্যোতি- নমস্কার দাদা, শুরুতেই তোমাকে স্বাগত জানাই নেট ফড়িং আয়োজিত ফড়িং সাক্ষাৎ এ।
গৌর- অনেক ধন্যবাদ তোমাদের।
দীপজ্যোতি- দাদা, এখন তো লকডাউন চলছে, মানে অনেকেই বলছিল একটা লম্বা ছুটি। কিভাবে কাটাচ্ছো এই লম্বা ছুটি?
গৌর- প্রথম প্রথম লম্বা ছুটি হবে ভেবে বোর হচ্ছিলাম। প্রথম কয়েকদিন মুভিস, ওয়েব সিরিজ দেখে কাটিয়েছি। তারপর একমাস ফটোগ্রাফি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য নিজেকে সময় দিয়েছি। আমি বরাবর ডাইরি মেইনটেন করতে পছন্দ করি। তারপর লকডাউনের শেষের দিকে নতুন ফটোগ্রাফারদের কথা ভেবে একটা খুব সহজ ভাবে উদাহরণ সহ ফটোগ্রাফি কোর্স বানিয়েছি। এতে আমার এক্সপেরিয়েন্সও শেয়ার করেছি। আশা করি এতে সবাই অনেক কিছু শিখতে ও জানতে পারবে। আমি যা জানি আমি সবাইকে শেখাতে ও জানাতে পছন্দ করি।
দীপজ্যোতি- আচ্ছা, এখন তো তোমার শুটিং নেই, অন্যান্য কাজগুলোও নেই এই সময় নিজেকে কিভাবে এক্সপ্লোর করছো।
গৌর - কাজ নেই। শুধু ব্রাইডাল ডেমোনেস্ত্রেশন ফটোশুট হচ্ছে। তাও খুব কম। নিজেকে এক্সপ্লোর বলতে অনেকটা সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা, আর কিছু ভিডিও করার চেষ্টা করছি। এখন ফটোগ্রাফি শেখার, জানার, ও নতুন নতুন কিছু টেকনিক রপ্ত করার চেষ্টা করছি।
দীপজ্যোতি - এমন কিছু যা তোমার আগে করা হয়নি সময়ের অভাবে এখন করছ।
গৌর - সময়ের অভাবে কম্পিউটার ফাইল ম্যানেজমেন্ট, আর নতুন ভাবে এডিটিং টেকনিকের উপর সময় দেওয়া সেভাবে হতোনা। এখন সেগুলো করছি।
দীপজ্যোতি - এই যে তুমি দিন দিন এত ভালো ভালো শুট করছো, এখন তো দত্ত জুয়েলার্সের হয়েও ফটো শুট করলে। এই যে সাকসেস এটা কি তোমার মধ্যে কখনো নেগেটিভ প্রেসার তৈরি করেছে ?
গৌর - আমার ব্যাক্তিগত কিছু কথা আছে। এই যে সবাই ফেমাস সাক্সেস এসব বলে। আমি বুঝে উঠতে পারি না এখনও সেগুলো। এখনও মনে হয় হয়তো আমি পারিনি কিছু করে উঠতে। আমার তোলা ফটো যাতে সবার ভালো লাগে সেটাই চাই। আসলে সত্যি কথা মাঝে মাঝে অবসাদে ভুগি। আবার সেটাকে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করি। ফটোগ্রাফি আমার জীবনের একটা এমন জিনিস যা আমার জীবন পাল্টে দিয়েছে। নিজের তোলা ছবিতে কখনও সন্তুষ্ট হইনা, মনে হয় আর ভালো তুলতে পারতাম।
দীপজ্যোতি - এখন বেশির ভাগ মানুষ মডেল শুট মানেই  ব্রাইডাল শুট বোঝে তাহলে কি ফটোগ্রাফির পরিসর দিন দিন কমতে কমতে ব্রাইডালএ সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে? এ বিষয়ে কি বলবে।
গৌর - মডেল শুট মানেই ব্রাইডাল শুট এটা অনেকেই ভেবে থাকেন। কিন্তু কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লি ওখানে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, মডেল শুট ই-কমার্স, ক্যাম্পেইন শুট, ফ্যাশন স্টোর বেসড। ফ্যাশন কোম্পানি বেশি হবার কারণে ওখানে মডেল শুট ঠিক মতো চলছে। আর ইনডোরের ক্ষেত্রে এখানে ব্রাইডাল শুট চলছে। তো এটাকে মডেল শুট বলা যায় না। সঠিক আলোর ব্যাবস্থা না থাকার কারণে আমিও এখানে করতে পারছি না। তবে আশা রাখছি একদিন নিশ্চয়ই করবো। তবে কোচবিহারে কিছু স্যার রয়েছেন। তারা খুব সুন্দর ফ্যাশন শুট করছেন। সত্যি এগুলো দেখলে বোঝা যাবে, ব্রাইডালের বাইরেও ফ্যাশন শুট হয়। আর আসল ফ্যাশন শুট আসলে কি...
দীপজ্যোতি - দাদা তোমার  ফটোগ্রাফির ইনস্পিরিশন কে মানে বাজারি ভাষায় কাকে দেখে এই লাইনে আসা?
গৌর - লাইনে আসা বলতে, সেদিন থেকে এই লাইনে এসেছি যেদিন আনন্দবাজার পত্রিকাতে আমার তোলা রাজবাড়ী’র ফটো সেরা হয়েছিল। সেই সম্মান আর সেই দিন আমি কোনদিনও ভুলবনা। দিনটা ছিল, ১৯শে আগস্ট, ২০১৫, ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফি ডে। আর তাছাড়া ফ্যাশন শুটের ক্ষেত্রে ডাব্বু রতলানি স্যার বা আর যারা যারা ইউটিউবে রয়েছেন তাদের ভিডিও দেখে রপ্ত করেছি অনেকটা। আর তাছাড়া আমার বন্ধু তমোজিতের তোলা ছবি দেখে এতো ভালো লাগে, আমিও চাই সেরকম শুট কোচবিহারের মডেলদের জন্য সহজলভ্য হোক। আর একটা কথা, সেই প্রথম দিনের পর হয়তো কিছু কিছু সম্মান পেলেও অ্যাওয়ার্ড পাইনি। যাই হোক, না পেলেও ঠিক আছে। জীবনে শেখার ইচ্ছে আর বেড়ে যায় তাতে।
দীপজ্যোতি - একদম ঠিক বলেছ। আচ্ছা, তুমি ওয়েব সিরিজ দেখো?
গৌর - ওয়েব সিরিজ সেভাবে কোনদিনও দেখতাম না। কিন্তু লকডাউনে দেখা দেখা শুরু করেছি। তবে পেইড কিছু নেইনি। (হাসি)
দীপজ্যোতি - তোমার প্রিয় ওয়েব সিরিজ কোনটা?
গৌর - প্রিয় বলতে অনেক গুলোই আছে। সেভাবে একটা বলা মুশকিল।
দীপজ্যোতি- এর পরে তোমার কি প্ল্যান ফটোগ্রাফিকে নিয়ে?
গৌর - প্ল্যান যা করেছিলাম, করোনা এসে শেষ করে দিয়েছে। আশা করি ঠিক হবার পর করতে পারবো। প্ল্যান বলতে আরো ভালো কাজ করার। আমি সবাইকে বলবো যদি আমার কাজ সবার মন থেকে ভালো লেগে থাকে তাহলে আমাকে কাজের জন্য বলতে পারো।
দীপজ্যোতি - টলিউড বা ওয়েবসিরিজগুলোতে কাজ করার ইচ্ছে আছে?
গৌর - টলিউড কাজ নিয়ে একটা দারুণ ঘটনা আছে। নাম নেবো না। তিনবার গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। প্রথম সুযোগ এসেছিল সেলিব্রিটিদের পার্সোনাল ফটোগ্রাফার হবার। আমি না করি পড়াশোনার জন্য। তারপর দ্বিতীয়বার চেষ্টা করি কিছুদিন আগে কিন্তু হয়নি। যাই হোক, যতটুকু পাওয়া যায় ততটুকুতেই সন্তুষ্ট থাকা উচিত।
দীপজ্যোতি - তোমার প্রিয় সিনেমা ?
গৌর-  প্রিয় সিনেমা আয়রন ম্যান। আই লাভ রবার্ট ড্রাউনি জুনিয়র।
দীপজ্যোতি - আগামীতে যারা ফটোগ্রাফি করতে চাচ্ছে তাদের জন্য কি বার্তা দেবে?
গৌর - মন থেকে ফটোগ্রাফি এলে সেটাকেই বেছে নাও। নিঃস্বার্থ ভাবে যদি এটাকে ভালো লাগে তবে ঠিক আছে। তবে একটাই শর্ত পড়াশোনা শেষ করে আসো। আমি পড়াশোনা করার জন্য টাকার প্রয়োজনে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি করে পড়াশোনা করেছি। তাই পড়াশোনাটা সবচেয়ে জরুরি। আর ব্যবহার ভালো রাখবে সবার সাথে, সবাই তাহলে মান্যতা দেবে। আর ফটোগ্রাফি নিয়ে কিছু প্রয়োজন হলে আমার সাথে যোগাযোগ করবে আমি সবসময় তোমাদের সাথে আছি।
শেষ কয়েকটা প্রশ্ন যেকোনো একটা অপশন বেছে নিতে হবে, বলতে পারো একটা র‍্যাপিড ফায়ার রাউন্ড।
১  স্ট্রিট ফটোগ্রাফি নাকি মডেল শুট ?
- মডেল শুট
২  হইচই নাকি নেটফ্লিক্স ?
- হইচই
৩ বাঙালিয়ানা নাকি ওয়েস্টার্ন ?
-সেটা যাকে যেটাতে মানায় তাকে সেটাই পরতে বলি। আমার পছন্দ  ওয়েস্টার্ন।
৪ ক্যানন নাকি নিকন ?
-সবসময় নিকন।
৫ তরুণ খৈয়াল নাকি ডাব্বু রতলানি?
-ডাব্বু রতলানি
৬ ইন্ডোর শুট না আউটডোর শুট ?
-ইনডোর। যদিও আমি আউট ডোরটা বেশি করি।
৭ ফেসবুক না ইনস্টাগ্রাম ?
-ফেসবুক
৮ কোচবিহার না কলকাতা ?
-কোচবিহার।
শেষ প্রশ্ন...
৯ নেটফড়িং না ক্যামেরানা ?
-ক্যামেরানা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। হ্যাঁ নেপটিজম আছে ওখানে। তাই নেটফড়িং কেই সিলেক্ট করবো।
অনেক ধন্যবাদ তোমাকে আমাদের সাথে থাকার জন্য, আমাদের কে এতটা সময় দেওয়ার জন্য। ভালো থেকো।

নেট ফড়িং সংখ্যা- ১৪৯ (বর্ষা সংখ্যা)

Edit Posted by with No comments

Jul 11, 2020

তিন-এ নেত্র- (স্বপন কুমার রায়)

Edit Posted by with No comments


তিন-এ নেত্র
স্বপন কুমার রায়

নমিতার মেয়েটা দুলে দুলে নামটা পড়ছে,
এক- এ চন্দ্র, দুই -এ পক্ষ, তিন-এ নেত্র।
অনেকটা সময় ধরে উনুনের হাঁড়িতে জল ফোটাচ্ছে
নমিতা,
মেয়েটা তিন সন্ধ্যা বেলায় খাবার চেয়েছিল,
এই ভর সন্ধ্যায় "ভূতেরা" খায়
এখন খেতে নেই !
এই বলে, মেয়েটাকে চুপ করায়,
এই দিকে মুষ্টির ঘটির চাল টুকো দুপুরে সেদ্ধ করি;
নমিতার বাপটা' সকাল আট'টায় কাজে গিয়েছে |
বলে গিয়েছিল,
ফিরতে দেরি হবে,ওভার ডিউটি আছে
বাড়তি মজুরিতে আমার জন্য শরীর উম রাখার একটা জামা,
মেয়ের জন্য একটা ড্রয়িং করা খাতা আর একটা ট্রাউজার কিনে আনবে,
কেন' যে এত দেরী !
ও মা'- মা
তিন-এ নেত্র ;কারো কারো বুঝি তিনটি চোখ !
হ্যাঁ মা' …না, মা...!!
মেয়েটা কল কল করে বলেই যাচ্ছে,
আমি অনেকগুলি পড়াশুনা করবো।
স্কুল থেকে সাইকেল পাবো,
বই পাবো,
জুতো পাবে,
মা' - আমাদের নামতা পড়ার শিক্ষক
"বল্লে"
পড়াশোনা করলে এক সঙ্গে অনেকগুলো টাকা পাবো !
মেয়ের কথা শুনে নমিতার চোখে জল ছল ছল করে,
মেয়েটা কখন জানি ঘুমিয়ে পরে ছেঁড়া পৃথিবীর উপর ছেঁড়া মাদুরের উপর,
অনেক রাতে !
বাজার শূন্য ব্যাগ পরে রয় মাদুরের একপাশে,
ততক্ষণে হাঁড়ি ভর্তি জল বাষ্প হয়ে চোখের কোণে শুকিয়ে,
তিনটি মানুষ পৃথিবীর এক কোণে ছেঁড়া পৃথিবীর উপর ছেঁড়া মাদুরটায় শুয়ে !

Jul 5, 2020

নেট ফড়িং সংখ্যা- ১৪৮

Edit Posted by with 2 comments

Jun 28, 2020

নেট ফড়িং সংখ্যা- ১৪৭

Edit Posted by with No comments

Jun 27, 2020

হারানো সম্পর্ক- (এস্ট্রিক্স)

Edit Posted by with No comments


হারানো সম্পর্ক
এস্ট্রিক্স

আজ থেকে ঠিক দুই মাস আগে আমার আর আমার স্ত্রীর ডিভোর্স এর জন্য কোর্টে হাজির হওয়ার তারিখ ছিলো। কিন্তু এই লকডাউনের দৌলোতে কোর্ট কাছারি তো সবই বন্ধ, তাই আর হলো না। কবে যে সব ঠিক হবে আর কবেই যে এই ঘর বন্ধি থাকার থেকে নিস্তার পাবো, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না।
আমি একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবী, বাড়ি কলকাতাতেই তবে কাজের সূত্রে থাকতে হয় নয়ডাতে। আমি আর আমার বউ, বিবাহিত প্রায় আট বছর, আমাদের একটা মেয়েও আছে, তিন্নি, এইবার জুলাই তে পাঁচ বছর পূর্ণ হবে তার। তিন্নি আর ওর মা কলকাতা তেই থাকে। আসলে তিন্নির মা, মানে আমার স্ত্রী ঋতিকা, একটা বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। আমার আর ওর কিন্তু লাভ ম্যারেজ হয়েছিল, তবে সময়ের সাথে সাথে ভালোবাসা বা ওই লাভ টা যেনো হারিয়ে গেছে কোথাও। কলেজেই পরিচয় আমাদের। আমি অন্তিম স্নাতকের ছাত্র আর ওর প্রথম বৎসর। সম্পর্কটা গড়ে উঠে খুব কম সময়েই। বিয়ে টা একটু দেরিতেই হয় আমাদের। এমনি কোনো রোমাঞ্চকর গল্পো নেই এর পেছনে, ওই দুজনের পড়াশোনা শেষ করে, চাকরি তে ঢুকে নিজেদের একটু স্থাই করে তারপর বিয়ে টা করি। ওই ধরুন বিয়ের আগে পাঁচ বছরের সম্পর্ক। ওর বাড়িও কলকাতা তেই। আমি ওই দক্ষিণ দিকে থাকতাম আর ওর বাড়ি পশ্চিম দিকে। বিয়ের পর চার বছর আমরা এক সাথেই থাকতাম, আমাদের কলকাতার বাড়িতেই। ও তখনও ওই স্কুলেই চাকরি করতো আর আমি অন্য একটা বেসরকারি কম্পানিতেই ছিলাম। বিয়ের তিন বছর পর তিন্নি এলো। আমরা খুবই খুশি ছিলাম। আমার মা বাবা, আমি, ঋতিকা আর আমাদের পরিবারের ছোটো সদস্য তিন্নি, এটাই আমাদের সংসার ছিলো। এক সাথে বেশ ভালোই কেটেছে চারটে বছর। তারপর একটা অফার পাই আমি ব্যাঙ্গালোর থেকে, ভালো মাইনে ছিল, তাই ঠিক করি যে এই কাজেই যোগ দিবো।
একটা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে আমি। পড়াশোনাতে আগা গোড়া ভালো ছিলাম তাই একটা সংকল্প ছিলো, যে অনেক টাকা উপার্জন করবো। তাই একটু ভালো থাকার আর সবাই কে ভালো রাখার চেষ্টায় ঋতিকা আর এক বছরের তিন্নি কে বাবা মার সাথে ছেড়ে চলে যাই ব্যাঙ্গালোর। ভেবেছিলাম ঠিক ঠাক ভাবে সব চললে, সবাই কে নিয়ে আসবো কলকাতা থেকে এখানেই। প্রথম প্রথম কষ্ট হতো সবাই কে ছেড়ে একা একা থাকতে। আর প্রথম ছয় মাস কোনো ছুটিও দায়নি যে বাড়ি যেয়ে ঘুরে আসবো। কলকাতা থেকে কারো ব্যাঙ্গালোরে আমার সাথে দেখা করতে যাওয়াও সম্ভব হতো না কারণ ঋতিকার চাকরি ছিলো তারপর তিন্নিও ছোটো আর সাথে মা বাবা কেও একা ফেলে আসা সম্ভব ছিলো না। যাই হোক, ছয় মাস পর যাই আমি বাড়িতে, তখন সবাই খুব খুশি, প্রথম বার বাড়ির থেকে এতদূর এতদিন ধরে থেকে এলাম। দশ দিনের ছুটি কাটিয়ে আবার ফিরে যাই। এই ভাবেই বছর কেটে যায় আর মাঝে এক দুবার এসেছিলাম বাড়ি। তারপর ব্যাঙ্গালোরে দেড় বছর চাকরি টা করার পর নয়ডা তে বর্তমান প্রতিষ্ঠান টাতে যোগ দেই। এক বছর পর বাড়িতে বলি সবাই মিলে এসে পরতে আমার এখানে, তবে বাবা আর ঋতিকা কেউ রাজি হয়নি, যদিও মা চেয়েছিল আসতে। তারপর তিন্নিও স্কুলে ভর্তি হয় আর ব্যাস কাউকেই আনা হয়নি আমার ওখানে, মাঝে ঘুরতে এসেছে কয়েকবার ঠিকই। আমিও বাড়ি আসতাম মাঝে মাঝে তবে সময়ের সাথে সাথে যাওয়া আসা টা কমে গেছে। যেখানে থাকি আর যেমন স্তরে আমার কাজ, সেই জাগজমোকে নিজের জিবনটা সাজিয়ে নিয়েছিলাম। আর কাজের চাপও বাড়তে থাকে আসতে আসতে। ঋতিকার সাথে ফোনে কথা বলাটাও কমে গেছিলো। আগে দিনে দু একবার ফোন তো হতই সবার সাথে কথা বলার জন্য আর সময় পেলেই ঋতিকা কে ফোন করে কিছুক্ষন কথা বলে নিতাম। এখন তো সেই সব কিছুই কমে গেছে। হয়ত দুদিনে একবার ফোন করতাম আর ওটাতেই সবার সাথে কথা আর মাঝে মাঝে তো সেটাও করা হয়েনা। তবে হ্যাঁ তিন্নি ফোন করলে আমার কথা বলতেই হতো।
আসতে আসতে সময় পেরিয়ে যাচ্ছিলো আর আমি দূরে সরে আসছিলাম ঋতিকার থেকে। কেমন যেনো একটা বিরক্তি এসে পরেছিল। এমন না যে আমি অন্য কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পরে ছিলাম তবে এই সম্পর্কটাও এখন বাঁধন মনে হচ্ছিলো। আর এক সাথেও তো থাকা সম্ভব হচ্ছিলো না। ও আমার কাছে এসে থাকতে রাজি না নিজের চাকরি ছেড়ে আর আমার কাছেও কোনো উপায় নেই কলকাতা তে স্থায়ী ভাবে থাকার। তাই ভাবলাম বিবাহ টা ভেঙ্গে দেওয়াটাই উচিত হবে। তাই বললাম একদিন ফোনেই ওকে। জিজ্ঞেস করলো "কেনো, হটাৎ কি হলো যে এতো বড়ো পদক্ষেপ?" বুঝিয়ে বললাম সব কারণ। জিজ্ঞেস করলো "বাবা মা আর তিন্নির কি হবে?" তখন এই প্রশ্ন টার উত্তর ছিলো না আমার কাছে আসলে অতদুর ভাবিনি তখনও তাই বললাম "সে নয় একটা কোনো উপায় করা যাবে।" তখন ও বললো "ঠিক আছে আগে সব ভেবে নাও তারপর জানিও, আমারও একটু সময় চাই ভাবতে।" আমার মন বদলানোর চেষ্টা ও করেনি ঠিকই তবে ওর গলার আওয়াজটা এবার একটু ভাঙ্গা ভাঙ্গা হলো, বুঝলাম হয়েতো চোখ দিয়ে ওর জল পরছে, মনটা খারাপ হয়েছে কিন্তু বুঝতে দিচ্ছে না আমায়।
তিন দিন ভেবে একটা নির্ণয় নিয়ে ফোনে কথা বললাম ঋতিকার সাথে। জানালাম ওকে যে ডিভোর্সের পর বাবা মা কে আমি নিয়ে আসবো আমার কাছে নয়ডা তে আর রইলো তিন্নির কথা, সে নয়ে ওর সাথেই থাকবে আর বললাম যে ও চাইলে আমাদের কলকাতার বাড়িতেই থাকতে পারে, মাঝে মাঝে তিন্নি কে দেখতে আসবো কলকাতা তে। আসলে ওই বাড়িতে বিয়ে হয়ে এসেছিলো প্রথম, এতো বছর ওই বাড়িতেই কাটিয়েছে, একটা আলাদা মায়া তে জড়িয়ে পড়েছে তাই আর আলাদা করতে চাইলাম না। সব চুপ করে শুনে উত্তর দিলো "সবই তো শুনলাম, তোমার ইচ্ছে মতনই হোক সব শুধু আমার একটা অনুরোধ আছে, সেটা রাখা গেলে ভালো হতো।" আমি জিজ্ঞেস করলাম "বলো কি চাও? চেষ্টা করবো যথা সাধ্য।" ও বললো "বাড়ি টা তুমি রেখে নিও, আমি ভাড়া বাড়ি নিয়ে খরচা চালিয়ে নেবো, শুধু বাবা মা কে আমার সাথে থাকতে দাও।" আমি শুনে অবাক হলাম, জিজ্ঞেস করলাম "এটা আবার কি ধরনের আর্জি হলো? আমার বাবা মা তোমার সাথে কেনোই বা থাকবেন?" তখন ও বললো " আজ আমাদের বিবাহ ভাঙচ তুমি, বুঝতে পারছি সেটাতে তোমার অধিকার হতেই পারে। তবে গতো ১২-১৩ বছর ধরে আমার বাবা মার সমান স্থানেই এই দুজন মানুষ কে রেখেছি আর আমার বাবা মা চলে যাওয়ার পর, এই দুটি মানুষ কে জড়িয়ে আছি আমি। আমার কি এই মানুষ গুলো, এই সম্পর্ক গুলোর উপরে কোনো অধিকার নেই?" শুনলাম ওর কথা গুলো, কিছুটা বোঝার চেষ্টাও করলাম তবে মা বাবা কে ওর কাছে দিতে পারলাম না। তাই বলে দিলাম "না এটা সম্ভব না।" তখন ও বলে উঠলো "তবে এই ডিভোর্স টাও সম্ভব না।" আর ফোন টা রেখে দিলো। মা বাবা অথবা তিন্নি কেউই এই সবের বিষয়ে জানতো না। জানাইনি কারণ বাবা মার শরীর টা ঠিক থাকে না তাই অযথা চিন্তায় ফেলতে চাইনা আর তিন্নি তো ছোটো, বুঝবেই বা কি! যাই হোক, আরো এক দুইবার ওকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম তবে ও আর মানলো না তাই নিজের আইনজীবী দিয়ে কাগজ পাঠালাম ডিভোর্সের ওর কাছে, সই করেনি তাই শেষ মেষ কেস টা উঠলো কোর্টে। আর সেই সূত্রেই এলাম কলকাতা আর ব্যাস আটকে পরলাম এই লকডাউনে।
জানি এই লকডাউন টা জরুরি ছিলো খুবই, মানুষ কে সুস্থ রাখতে, ভালো রাখতে। তবে আমার জন্য যেনো এটা একটা বিরক্তিকর দন্ড ছিলো, বন্দী হয়ে গেছিলাম সেই মানুষটার সাথে যার থেকে আলাদা হোওয়ার জন্যই আমার এখানে আশা। খুব বিরক্ত লাগতো, সারাদিন তাকে চোখের সামনে দেখতে তবে তিন্নি কে সারাক্ষণ কাছে পেতাম তাই সহ্য হয়ে যেত এই সব। আর বাড়িতে খুব একটা কাজও ছিলো না, সারাদিন ওই মোবাইল, ল্যাপটপ আর মেইল চেক, মাঝে মাঝে ছাঁদে জেয়ে ফুল গাছ গুলো কে একটু জল দিতাম আর একটু সেকটু বাড়ির কাজ করতাম ব্যাস। এই ভাবেই দিন কাটছিলো, হটাৎ একদিন ঘুম ভাঙ্গল একটা চিৎকারের আওয়াজ শুনে, দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে দেখি ঋতিকা পরে আছে সিড়ির শেষে। তারাহুরো করে গেলাম ওর কাছে, বুঝতে পারলাম ভালই চোট পেয়েছে বাম পায়ে আর ডান হাতটা তে। হেঁটে যাওয়ার অবস্থায় ছিলো না তাই আমি কোলে করেই নিয়ে গেলাম ওকে ওর ঘরে। ডাক্তার ডাকলাম, আমার বন্ধুই ছিলো সে, আমাদের পারিবারিক চিকিৎসক। এলো দিব্যেন্দু আধা ঘন্টার মধ্যেই। দেখেই বললো এক্সরে আর কিছু পরীক্ষা করাতে। নিয়ে গেলাম আমি আর দিব্যেন্দু মিলে ওকে। তিন্নি আর মা বাবা বাড়িতেই ছিলো। সব করে ফিরতে ফিরতে তখন প্রায় দুপুর দেড়টা। রিপোর্ট এলো বিকেলে, যা ভেবেছিলো দিব্যেন্দু সেটাই হোয়েছে। ডান হাতের হাড় টা ভেঙেছে আর বাম পায়ের হাঁটুতে চির ধরেছে। সব মিলিয়ে দাড়ালো যে দুই জায়গা তেই প্লাস্টার করতে হবে আর ঠিক হতে হতে মোট এক মাস তার আগে কোনো রকম ভারী কাজ করা বারণ আর বিছানায় সজ্জাসাই থাকতে হবে কম করেও আড়াই সপ্তাহ। সব ওষুধ লিখে দিয়ে আর খাওয়ানোর পদ্ধতি বলে দিব্যেন্দু চলে গেলো বাড়িতে নিজের। সেদিন দুপুরের রান্না টা আমিই করেছিলাম। আর তো কেউ নেই করার। আর সেদিন থেকেই ঋতিকা যেই সব কাজ গুলো করতো সারাদিন, যত সব ওর দাইত্ব ছিলো সবার প্রতি, সব এলো আমার ঘাড়ে আর সাথে ওর দেখা শোনাও করতে হতো।
আগামী দিন থেকে সময়তালিকা পাল্টে গেলো আমার। সকালে উঠেই গেলাম ঋতিকার ঘরে। দেখলাম ও জেগে আছে আর মা বসেছিলো ওর পাশে। কথা বলে জানতে পারলাম, ভোর পাঁচটা থেকেই নাকি ও জেগে আছে। ওটাই আসলে ওর রোজকার ওঠার সময় আর ওর ওঠার পর, এই সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মা ও উঠে পড়েন তবে আজ একটু তাড়াতাড়ি উঠেছেন। আর ওঠার কারণ টা হলো ঋতিকা। সকালে জেগেই নাকি কাউকে না জানিয়ে বাথরুম যাওয়ার চেষ্টা করেছিল আর পরে গেছে মেঝে তে আর সেই আওয়াজই মার ঘুম ভেংগে যায় আর মা ওকে নিয়ে যায় বাথরুমে। এটা দেখে ঠিক করলাম আজ রাত থেকে ওর আর তিন্নির সাথেই ঘুমাবো নইলে মা কে অযথা বিরক্ত হতে হবে। যদিও মা একটুকুও বিরক্ত হয়নী, বরঞ্চ চিন্তিত ছিলো ওকে নিয়ে। তারপর কিছু ওষুধ দেওয়ার ছিলো ওকে, সেগুলো দিয়ে নিয়ে নিজে একটু ফ্রেশ হয়ে ঢুকলাম রান্নাঘরে, মা ও এলো সাহায্য করতে মানা করাতে বললো যে এটুকু সাহায্য উনি সব সময়ই করেন রান্না করতে। দুজনে রান্নার কাজ টা সেরে তিন্নি কে উঠালাম আর ওকে ফ্রেশ করিয়ে সবাই মিলে সকালের খাওয়ার টা খেয়ে নিলাম। এরপর বাসন মাজা, কাপড় ধোয়া, ঘর মোছা সবই এক এর পর করতে লাগলাম, আর মা কে বললাম ঋতিকা কে খেয়াল রাখতে নইলে মা কোনো কাজই পুরো পুরি করতে দিতো না আমাকে। সব কাজের মাঝে হটাৎ নজর চলে যেতো ওর দিকে আর দেখতাম ও তাকিয়ে আছে আমার দিকে, মন খারাপ নিয়ে, কারণ ও কোনোদিন আমাকে কিছু করতে দিতো না আর যেই আমার নজর ওর উপর যেত, অন্য দিকে তাকানোর ভান করতো। এই ভাবেই সারাদিন কেটে গেলো। রাতে খাবার এর পর ঘুমোতে যাই, তিন্নি কেও নিয়ে আশি আমাদেরই ঘরে, ওকে মাঝে শুইয়ে দুপাশে সুলাম দুজনে। আজ প্রায় দুই বছর পর এক বিছানায় আমরা। খুব ক্লান্ত ছিলাম তাই বিছানা তে মাথা রাখতেই ঘুমিয়ে পড়ি। পরে সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি মাঝে তিন্নি নেই চলে গেছে ঠাম্মা আর ঠাকুর্দার কাছে, বিছানায় ছিলাম শুধু আমি আর ও। উঠে পরলাম দেরি না করে আর শুরু একই সেই সময়তালিকা হিসেবে কাজ করা। আজ রাত থেকে তিন্নি ঘুমাতো না আমাদের সাথে, শুধু আমি আর ওই শুতাম একসাথে। এই ভাবেই দিন গুলো পেরোতে থাকলো, একদিন, দুইদিন, তিনদিন করে এক সপ্তাহ। রোজ ভোরে ওঠা, সবার জন্য কাজ করা আর ক্লান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে যাওয়া। খুব বিষণ্ণ লাগতো মাঝে মাঝে। আর বুঝলাম আসতে আসতে এই কিছুদিনেই আমার এই অবস্থা আর মানুষটা তো কতো বছর থেকে এই সব করছে আর সাথে নিজের চাকরি টাও সামলাচ্ছে। জানেন সেদিন থেকে একটা আলাদা শ্রদ্ধা জন্মালো ওর প্রতি। সেই যে আমাদের কলেজের অপরিপক ভালোবাসাটা ছিলো, তারপর বিয়ে তারপর সেই ভাবে সম্পর্কটাকে সময় টাই দিয়ে ওঠা হয়নী পূর্ণতা পাওয়ার, যদিও বেশির ভাগ দোষ টা আমারই ছিলো, সেই সময় টা মনে হলো যেনো সম্পর্কটা এখন পাচ্ছিলো।
দিন পেরোতে রইলো আর তার প্রতি ভালোবাসা টা যেনো ফিরে ফিরে আসছিল আমার মনে। সেই দিন গুলো, সেই সময়গুলো ভেসে আসছিলো যখন ভালোবাসায় মিলে মিশে একাকার ছিলাম দুজনে। মনে মনে ঠিক করলাম ফিরবো না নয়েডা তে আর। ওই কাজটা ছেড়ে, কলকাতাতেই কোনো কাজ খুঁজে নেব। সময় লাগবে একটু আর বেতন টাও হয়তো মনের মতন পাবো না তাও যেটুকু ব্যাংকের খাতায় আছে সেটুকু তে চলে যাবে। আর এই লকডাউন এটাও শিখিয়েছে যে আমাদের রোজকার জীবিকা তে জরুরি জিনিস গুলোর আর্থিক মূল্য যথেষ্ট কম, অর্থ তো আমরা খরচ করি নিজেদের সদাম্ভিক জীবিকার সামগ্রী গুলোতে। এটা মনে ভেবে রাখলাম তবে ওকে বলার সাহস টা যোগাতে সময় লেগেছে অনেক। ভালোবাসা যখন ছিলোনা এই ভয়টাও ছিলো না আর এখন ভয়টা এসেছে কারণ ভালোবাসা টা ফিরে পেয়েছি। ভয় টা ওর থেকে না, ওকে হারানোর ভয় এটা।
দেখতে দেখতে ঠিক হয়েগেলো ও। এখন যথেষ্টই ভালো, নিজের সব কাজ আবার সামলে নিচ্ছে, তবুও যেটুকু পারি হাতে হাতে ওর সাহায্য করি, ও মানা করে তবে এই সাহায্যর ছলেই হোক, ওর কাছাকাছি থাকতে পারি আর ওর কিছুটা আরাম হয় তাই করি। এখনো এক সাথেই সুই। হটাৎ একদিন সোয়ার সময় আর নিজের মনের কথা আটকাতে পারলাম না, ভেঙ্গে পরলাম, কেঁদে ফেললাম, আর আমার চোখে জল দেখে জড়িয়ে ধরলো ও আমাকে, জিজ্ঞেস করলো "কি হয়েছে? কাঁদছো কেনো এই ভাবে হটাৎ?" আমি বললাম "আর পারছি না, তোমাকে ছেড়ে, তোমার পাশে থেকেও তোমার থেকে কতো দূরে সরে গেছি আমি নিজের ভুলে। পারছি না আর।" আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো "তোমার জীবন, তুমি যেই ভাবে চাও বাঁচতেই পারো, তুমি বিয়ে করেছ বলেই যে আমার সাথে সারাজীবন থাকতে হবে সেটাতো জরুরি না, তুমি আলাদা হতে চাও যেতেই পারো। সেটা তো দোষের কিছুনা।" ওর কথা গুলো শুনে যেনো আরো ভেঙ্গে পরলাম নিজেকে আরো ছোটো মনে হলো এই মানুষটার কাছে। শেষে বললাম ওকে "আমি তোমাদের সাথে থাকবো, চাইনা আমার ডিভোর্স, চাইনা টাকা, শুধু তোমাদের নিয়ে থাকতে চাই। এখানেই একটা কাজ খুঁজে থেকে যাবো। একসাথে থাকবো, বলো রি  তুমি থাকবে তো আমার সাথে?" এটা শুনেই ও আমায় ছেড়ে একটু দূরে সরে বসলো। ওর চোখটাও ভেজা তবে মুখে কিছুই বললো না। জিজ্ঞেস করলাম আবার "বলো না রি তুমি থাকবে তো আমার সাথেই?" কিছুক্ষন পর উত্তর দিলো "না। আমি থাকতে পারবো না তোমার সাথে।" আমি কারণটা জিজ্ঞেস করতেই বলে উঠলো "তুমি যা বলেছ, যেই নির্ণয় নিয়েছো এই সম্পর্ক টা নিয়ে নিজের ব্যাপারে ভেবে আমি সেটাতেই রাজি ছিলাম। আর আজ আমি নিজের জীবনের নীর্ণয় নিয়ে নিয়েছি আর আমি চাইনা এই সম্পর্ক টা রাখতে। আশা করি তুমিও জোর করবে না আমায়।" এই কথা টা শুনে আর কি বা বলতাম ওকে আমি। ঠিকই তো বলছে ও, আমার জীবনের নির্নয়গুলো নেওয়ার অধিকার আমার থাকলে ওর ও অধিকার আছে নিজের জীবনের মির্ণয় গুলো নেওয়ার। যদিও জানি ও খুব অভিমান করে আছে আমার উপর, এটাও হতে পারে যে ওর আত্মমর্যাদাতে অনেক খানি আঘাত লেগেছে আমার কথায় অথবা ওর আমার প্রতি ভালোবাসাটা আজ কোথাও হারিয়ে গিয়েছে। কারণ টা যেটাই হোক, অসম্মান করবো না ওর কথার আমি শুধু প্রার্থনা করছি ওর আমার সাথে থেকে যাওয়ার। আর যদি না থাকে তাহলে এই লকডাউন টা যতদিন আছে, নিজের এই সুবর্ণ মুহূর্ত গুলো উপভোগ করে নেই। শেষে কি হবে এই সম্পর্কটার পরিণতি আমি জানিনা তবে ঋতিকা কে আজীবন ভালোবেসে যাবো আর থাকবো ওর আসে পাশেই, নিজের সব দাইত্ব গুলো পালন করবো ওর প্রতি। ভালো রাখবো ওকে।

চুম্বক- (মিষ্টু ঘোষ)

Edit Posted by with No comments


চুম্বক
মিষ্টু ঘোষ

সুখ সুখ কষ্টের শিকার হতে হতে মনে উই পোকার ঢিবি তৈরী হয়েছে,
হেমন্তের রেশ কেটে গিয়ে রাতে শীতের চাদর মুড়ি দিয়ে সকালের শিশির চুমু খায় ঘাসের বুক,
দাম্ভিক সূর্যের অহংকার ফিকে হয়েছে কুয়াশার আড়ালে,
সুদীপ্ত নরম ব্ল্যাঙ্কেট ছেড়ে কোনদিন শীত অনুভব করেনি,করতে চায়নি,
খেয়া রোজ ভোরে শিশির দেখে,গানের রেয়াজ সেড়ে ছাঁদে গিয়ে ভোরের আলো মাখে গায়ে।
এই সাদামাটা মেয়েটা ঠিক সুদীপ্ত র বিপরীত।
পছন্দ,স্বভাব কিছুই মেলে না তাদের।
তবুও চুম্বকের মতো আকর্ষণ তীব্র তাদের।

Jun 24, 2020

"পাপি তারা" (স্বপন কুমার রায়)

Edit Posted by with No comments


পাপি তারা
স্বপন কুমার রায়

আজ বড়ো একা লাগে,
রাতটাও বেশ বড়ো
অন্ধকারের ঘনত্ব আগের চেয়ে অনেকটাই ভারী,
আকাশে যে কয়টা তারা দেখে অনুপ্রেরনা পেয়েছিলাম।
সে গুলো যে পাপি তারা বুঝতে একটুও অসুবিধা হচ্ছে না ;
বর্ণমালা সাজিয়ে মায়ের অব্যক্ত কথা গুলো বলতে চেয়েছিলাম,
আজ মায়ের চোখে জল !
বলা হল না-
বর্ণমালা ঠিকরে বের হওয়া শব্দে ডিনামাইট ফাটানোর
আওয়াজ,
নতুন সূর্য্যের অপেক্ষায় থাকা বৃথা।
ভোর হতে না হতেই নতুন সূর্য্যের গর্ভপাত,
রক্তে ভেজা মায়ের আভরন ;
আমি দুহাতে অন্ধকার ঠেলে দেখি একসঙ্গে অজস্র কালো হাত ধেয়ে আমার দিকে,
আমি সখ্যতা করি শামুকের সাথে,
বেঁচে যাই পাপি তারা হয়ে।

Jun 23, 2020

"তুই-আমি" (সৌগত রাণা কবিয়াল)

Edit Posted by with No comments


তুই-আমি
সৌগত রাণা কবিয়াল

আমার বুকে তোর হাজার নখের আঁচড়,
আজকাল সাদা সাদা শুকনো মরে যাওয়া নদীর মতো দেখতে লাগে,
আচ্ছা, তুই কি সেই আগের মতোই আজ অন্য কাওকে ভালোবাসিস ?
তার বুকটা যে আজকাল দেখতে ভীষণ ইচ্ছে জাগে !

Jun 22, 2020

পুরুষ- (তমালিকা গাঙ্গুলী)

Edit Posted by with No comments


পুরুষ
তমালিকা গাঙ্গুলী

সব পুরুষেরা সমান হয় না।
হাতে গোনা কয়েকটা পুরুষের কিছু ভুল এর জন্যে;
আমরা নির্ভয়ে কটুক্তি করি সেই "জাত"কে।
আমাদের সৃস্টিতে যাদের সমান অবদান,
ভুলে যাই সেই মানুষগুলোকে,
যারা সম্পর্কে আমাদের সন্মান, পিছুটান, কর্তব্য।
সত্যি কি এর দায় আমরা এরাতে পারি?
বাস্তবটা হল এড়িয়েই তো যাই,
৯মাস গর্ভে ধারণ করে,
যেমন আমরা মেয়ে রা, "মা" হই।
তেমনি আঙুল ধরে হাটতে শিখিয়ে
একজন ছেলেও "বাবা" হয়।
কই তবু ওদের নিয়ে তো কবিতা লেখা হয় না !
আসলে যেই শব্দ গুলো চোখ দিয়ে অনুভব করি,
সেগুলো দিয়ে নারীসত্বা বিচার হয়।
আর যেই শব্দেরা লুকিয়ে থাকে আন্তরিক শ্রদ্ধায়।
তা দিয়ে রোজ লেখা হয় "পুরুষ" নামক কবিতা।

Jun 21, 2020

নেট ফড়িং সংখ্যা- ১৪৬

Edit Posted by with No comments