বুধবার, ১৫ মে, ২০১৯

ভাতের দাম


ভাতের দাম
অদিতি দাম

ললিতের আজকের ছবিটা  প্রায় সাড়ে ৬ লাক্ষ টাকা বিক্রি হল। এক বিদেশী  পর্যটক  ছবিটি  নিয়ে গেলেন।  পূজার মনে আনন্দের শেষ নেই। পাড়ার লোককে ডেকে ডেকে মিস্টি খাওয়াচ্ছে।  না সত্যি আনন্দ হওয়ারই কথা।
ললিত  ছোটো  থেকেই খুব ভালো  ছবি আঁকতো।  পড়ার পাশাপাশি  ছবি আঁকাটাকে সে নেশা করে নিয়েছিলকবে যে এটা কে পেশা করবে ঠিক  করে ফেলে সে নিজেও জানতো  না।  হঠাত বাবা একদিন বেসরকারি  চাকরির একটা কল লেটার ললিতের হাতে দিয়ে বলল " সকাল ৯ টা  থেকে রাত ৮ টা  অবধি ডিউটি মাসে সাড়ে  সাত হাজার টাকা মাইনে। " ললিত শুধু  প্রতিবাদ করে বলেছিল " আমার ছবি আঁকাটা....." বাবা গর্জে বলেছিল " ওসব ছবি টবি একে কোনো  লাভ নেইশিল্পী  দের আবার ভাত আছে নাকি?  "
সেদিন পূজা এসে হাত ধরেছিল ললিতের।  আজও হাত টা  ধরে আছে।  ললিত পূজার হাত ধরে বাড়ি ছেড়েছিল। পূজা সেদিন ভাতের দায়িত্ব  নিয়েছিল বলেআজ তার ছবি লাক্ষ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  ললিত পূজার হাতে টাকাটা দিতে দিতে বলল- "ভাতে দামের কিছুটা ঋণ  শোধ করলাম "।

রবিবার, ১২ মে, ২০১৯

মাম্মাম



মাম্মাম
দীপজ্যোতি গাঙ্গুলী

ছোটবেলা থেকেই মাম্মামের সাথে হেমের সম্পর্কটা খুব যে মাখো মাখো বা আর পাঁচটা মেয়ের সাথে তার মায়ের সম্পর্ক ঠিক যেমনটা হয় তেমনটা নয়। খুব ছোট থাকতেই মা মারা যায় নিউমোনিয়ায়। তখনকার স্মৃতি এখন আর মনে নেই। কিন্তু সেইদিনটা মনে আছে। যখন বাবা মাম্মামকে নিয়ে এলো। না বাবা কিছু বলেনি, আজ অবধি বলেনি।  ঠাম্মি বলেছিল মাম্মাম ডাকতে। সেই থেকেই মাম্মাম। সেই থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়া অবধি ওর দেখা শোনা যেই মানুষটি করেছিল সেই মাম্মাম। মাম্মাম-ও যে কোনোদিন মাতৃত্বের অধিকার দাবি করেছে তা না। কিন্তু হেমের প্রতি নিজের দায়িত্ব কখনো অস্বীকার করেনি।
টিং টং (কলিং বেলটা কে যেন বাজালো)।
পোস্টম্যান। একটা কুরিয়ার নিয়ে এসেছে।
ঘরে এসে কুরিয়ারটা খুলতেই দেখলো একটা বিদেশী ঘড়ি গিফট প্যাক করা আর তার সাথে একটা কার্ড। তাতে লেখা,
"হ্যাপি মাদার্স ডে মা। কোনোদিনও বলে উঠতে পারিনি আজ তুমি কাছে নেই তাই হয়তো আরো বেশি করে বলতে ইচ্ছে করছে। তুমি আমার সৎ মা হলেও তোমার মাতৃত্বের সততা অন্য মায়েদের তুলনায় অনেক বেশি। আই লাভ ইউ মা। তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মা।"
                                   ভালোবাসা নিয়ো,
                                        তোমার হেমনলিনী।

ছলছল চোখে ঘড়ির বাক্সটা খুলতে লাগলো মাম্মাম। হয়তো এটাই জীবনের সেরা প্রাপ্তি!


নেট ফড়িং সংখ্যা ৮৮